হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিতর্ক, ফিফা তবুও সবক দিচ্ছে!

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে খেলোয়াড়দের তরল পানের জন্য দেওয়া তিন মিনিটের বিরতি বা ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিরতি পুরোপুরি খেলাধুলার স্বার্থে এবং টেকনিক্যাল কারণে চালু করা হয়েছে। এর পেছনে ফিফার বাড়তি কোনো আয়ের উদ্দেশ্য নেই কিংবা এ থেকে সংস্থার কোনো অতিরিক্ত রাজস্বও আসছে না।

উত্তর আমেরিকার তীব্র গরমের মধ্যে খেলোয়াড়দের স্বস্তি দিতে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে এই তিন মিনিটের বিরতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে মাঠে এই বিরতির সংকেত বাজলেই অনেক স্টেডিয়ামে দর্শকদের দুয়ো দিতে দেখা গেছে। পাশাপাশি খেলোয়াড় ও কোচদের মধ্যেও একে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল যেমন মন্তব্য করেছেন, এই বিরতি ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ও বৈশিষ্ট্য তার ধারণার চেয়েও বেশি বদলে দিচ্ছে। অন্যদিকে অনেক দেশে টিভি সম্প্রচারকারীরা এই সময়টাতে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে, যা নিয়ে সাধারণ মহলে তুমুল আলোচনা চলছে।

মূলত সমালোচকদের এমন ধারণাকে উড়িয়ে দিতেই ফিফা প্রধান এক বিবৃতিতে জানান, এই টুর্নামেন্টের সমস্ত বাণিজ্যিক চুক্তি অনেক আগেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। ফলে এখন নতুন করে বিজ্ঞাপনের টাকা ফিফার তহবিলে আসার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এটি কোনো আর্থিক বিষয় নয় বরং এটি পুরোপুরি একটি স্পোর্টিং সিদ্ধান্ত।

ইনফান্তিনো আরও ব্যাখ্যা করেন, চরম আবহাওয়ার পাশাপাশি ৩৯ দিনে আটটি ম্যাচ খেলার মতো ঠাসা সূচিতে খেলোয়াড়দের কিছুটা বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। তবে এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা। কোনো ম্যাচ গরমে হলে সেখানকার কোচ কৌশল বদলানোর বাড়তি সুযোগ পাবেন, আর অন্য ম্যাচ কম তাপমাত্রায় বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে হলে সেখানকার কোচ সেই সুযোগ পাবেন না; এমন বৈষম্য এড়াতেই আবহাওয়া যেমনই হোক, সব ম্যাচেই এই নিয়ম কার্যকর রাখা হচ্ছে।

যদিও ফিফা সরাসরি লাভবান হচ্ছে না বলে দাবি করছে, তবে সম্প্রচার সংস্থাগুলোর জন্য এটি বিশাল এক আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফক্স স্পোর্টসের মতো বড় চ্যানেলে বিশ্বকাপের মাত্র ৩০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপনের স্লটের দাম দুই থেকে তিন লাখ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ বা ফাইনালের দিকে সাড়ে সাত লাখ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। সেই হিসেবে কেবল এই ওয়াটার ব্রেকের বিজ্ঞাপনের সুবাদেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রচারকারীদের ২৫ কোটি ডলারের বেশি বাড়তি আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে বিআরটিএর নির্দেশনা

» বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২০ জন গ্রেফতার

» রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান

» ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েদির মৃত্যু

» ৩৯ পাউন্ডের কেক কেটে পশ্চিমবঙ্গে মেসির ৩৯তম জন্মদিন উদযাপন

» সায়েদাবাদ ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৬জন গ্রেফতার

» প্রতারণা করে রিকশাচালকদের কাছে টাকা আদায়, যুবক আটক

» জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার আনা হবে : প্রতিমন্ত্রী

» তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

» চীনের মানবসদৃশ রোবট জাপান ‘দখল’ করছে?

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিতর্ক, ফিফা তবুও সবক দিচ্ছে!

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে খেলোয়াড়দের তরল পানের জন্য দেওয়া তিন মিনিটের বিরতি বা ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিরতি পুরোপুরি খেলাধুলার স্বার্থে এবং টেকনিক্যাল কারণে চালু করা হয়েছে। এর পেছনে ফিফার বাড়তি কোনো আয়ের উদ্দেশ্য নেই কিংবা এ থেকে সংস্থার কোনো অতিরিক্ত রাজস্বও আসছে না।

উত্তর আমেরিকার তীব্র গরমের মধ্যে খেলোয়াড়দের স্বস্তি দিতে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে এই তিন মিনিটের বিরতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে মাঠে এই বিরতির সংকেত বাজলেই অনেক স্টেডিয়ামে দর্শকদের দুয়ো দিতে দেখা গেছে। পাশাপাশি খেলোয়াড় ও কোচদের মধ্যেও একে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল যেমন মন্তব্য করেছেন, এই বিরতি ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ও বৈশিষ্ট্য তার ধারণার চেয়েও বেশি বদলে দিচ্ছে। অন্যদিকে অনেক দেশে টিভি সম্প্রচারকারীরা এই সময়টাতে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে, যা নিয়ে সাধারণ মহলে তুমুল আলোচনা চলছে।

মূলত সমালোচকদের এমন ধারণাকে উড়িয়ে দিতেই ফিফা প্রধান এক বিবৃতিতে জানান, এই টুর্নামেন্টের সমস্ত বাণিজ্যিক চুক্তি অনেক আগেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। ফলে এখন নতুন করে বিজ্ঞাপনের টাকা ফিফার তহবিলে আসার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এটি কোনো আর্থিক বিষয় নয় বরং এটি পুরোপুরি একটি স্পোর্টিং সিদ্ধান্ত।

ইনফান্তিনো আরও ব্যাখ্যা করেন, চরম আবহাওয়ার পাশাপাশি ৩৯ দিনে আটটি ম্যাচ খেলার মতো ঠাসা সূচিতে খেলোয়াড়দের কিছুটা বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। তবে এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা। কোনো ম্যাচ গরমে হলে সেখানকার কোচ কৌশল বদলানোর বাড়তি সুযোগ পাবেন, আর অন্য ম্যাচ কম তাপমাত্রায় বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে হলে সেখানকার কোচ সেই সুযোগ পাবেন না; এমন বৈষম্য এড়াতেই আবহাওয়া যেমনই হোক, সব ম্যাচেই এই নিয়ম কার্যকর রাখা হচ্ছে।

যদিও ফিফা সরাসরি লাভবান হচ্ছে না বলে দাবি করছে, তবে সম্প্রচার সংস্থাগুলোর জন্য এটি বিশাল এক আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফক্স স্পোর্টসের মতো বড় চ্যানেলে বিশ্বকাপের মাত্র ৩০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপনের স্লটের দাম দুই থেকে তিন লাখ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ বা ফাইনালের দিকে সাড়ে সাত লাখ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। সেই হিসেবে কেবল এই ওয়াটার ব্রেকের বিজ্ঞাপনের সুবাদেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রচারকারীদের ২৫ কোটি ডলারের বেশি বাড়তি আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com